শারদীয় দুর্গোৎসবে আগামী ২০ অক্টোবর রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে কুশল বিনিময় করবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ও চট্টগ্রামে আরও দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সফরসূচিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকেও সফরটি সফল করতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী রাধা গোবিন্দ মন্দির (রংপুর ধর্মসভা) পূজামণ্ডপটি পরিদর্শনের কথা রয়েছে। তবে তাঁর পরিদর্শনের সুবিধার্থে রাধা গোবিন্দ মন্দির ছাড়াও শ্রী শ্রী করুণাময়ী কালীবাড়ি মন্দির ও গুপ্তপাড়া মন্দিরও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। বেলা ১১টার দিকে তাঁর রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে রাজশাহী এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এখানকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দলীয়ভাবেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা হতে যাচ্ছে যে, কোনো প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বাইরে শারদীয় উৎসবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মফস্বল অঞ্চলে আসছেন।
উল্লেখ্য, রংপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মিলনকেন্দ্র হলো রাধা গোবিন্দ মন্দির, যা স্থানীয়ভাবে ‘রংপুর ধর্মসভা মন্দির’ নামেও পরিচিত। এই মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, সভা-সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

