“চেষ্টা করছি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার। কিন্তু সবার প্রচেষ্টা ছাড়া সম্ভব নয়,” বলেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক গোলাম সারওয়ার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার যখন শিশু হাসপাতালে ঢোকেন, তখন আশপাশের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালগুলোতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়।
যেকোনো মুহূর্তে এসব হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী ঢুকতে পারেন— এ আশঙ্কা থেকে সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে। তাড়াহুড়া করে হাসপাতালগুলোর সামনের ফুটপাতের দোকানগুলো সরানো হয়।
রোববার সকালে এসব হাসপাতালের আশপাশে ঘুরে তুলনামূলক পরিষ্কার দেখা গেছে। হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মাঝামাঝি খোলা জায়গায় প্রায় স্থায়ীভাবে বেশ কয়েকটি হোটেলসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান থাকলেও তা দেখা যায়নি।
হাসপাতালগুলোর সামনের ফুটপাতেও দুই-একটি ডাবের ভ্যান ছাড়া আর কোনো কিছু চোখে পড়েনি। প্রায় প্রতিটি হাসপাতালের গেটের সামনে আনসার সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে একজন আনসার সদস্যকে খুবই তৎপর দেখা যায়, যেন কোনো দোকান না বসে আর রিকশা বা অন্য কোনো যানবাহন ভিড় না করে। খালি গাড়ি, রিকশা, ভ্যান যেন না ঢোকে, সেদিকেও নজর রাখেন তিনি।
আতিকুল নামের ওই আনসার সদস্য বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কাল পাশের (শিশু) হাসপাতালে হঠাৎ করে আসায় এখানে তার প্রভাব পড়ে। প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতালে আসতে পারেন— এই আতঙ্কে ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চেষ্টা ছাড়াও ফুটপাতগুলো থেকে দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে কতদিন এই অবস্থা থাকে তা বলা কঠিন। এটা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”
দোকান সরালেও প্লাস্টিকের কয়েকটি মালামাল নিয়ে কাছাকাছি বসে থাকা এক দোকানি বলেন, “কথা হচ্ছে ২-৩ দিনের মধ্যে আমরা আবার বসতে পারব। আমাদের অপেক্ষা করতে বলেছে।”
হাসপাতালগুলোর সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা গেছে চোর-পুলিশ খেলা। হাসপাতালগুলোর বিপরীত দিকে বেশ কিছু দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। পুলিশ বা আনসার একটু আড়াল হলে আবার তারা রাস্তার ওপারে হাসপাতালের সামনে গিয়ে অল্প মালামাল নিয়ে বসছে।
অন্যদিকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সামনে থেকে ফুটপাতের দোকান সরে গেলেও বিকালের দিকে দুই-একজন করে বসতে শুরু করে।
এসব দোকানির ভাষ্য, তারা কথা বলেই এখানে বসেছে। তবে কাদের সঙ্গে কথা বলে বসছে, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে তারা অস্বীকার করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে আগারগাঁওয়ের একটি ফুটপাত।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক মীর্জা গোলাম সারওয়ার তার হাসপাতাল ঘিরে রোগীর সেবা বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা বলেন। তার মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও একটি।
“আমরা চেষ্টা করছি হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে। কিন্তু এটা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া সম্ভব হবে না। রোগী, রোগীর স্বজনদের সচেতন হতে হবে। তবে সিটি করপোরেশন আমাদের সহায়তা করছে ফুটপাত থেকে দোকান সরাতে।”
তিনি হাসপাতালের শয্যার সংখ্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়া, ৮৫০ শয্যা থেকে ১ হাজার ৩৫০ আসন বাড়ানো হলেও সে হারে জনবল না বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালককে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করে বলেন, “গতকালকের পর এখন দেখছি হাসপাতালের কর্মচারীদের তৎপরতা বেড়েছে। পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কেউ যদি পানের পিক দেওয়ালে ফেলে বা চিপসের প্যাকেট, পানির বোতলের মতো বর্জ্য বস্তু ফেলে, তা হলে করার কিছু থাকে না।”
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “ফুটপাতগুলো পরিষ্কার রাখার বিষয়ে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সার্বক্ষণিক নজর রাখছি যেন কোনো দোকান আর ফুটপাতে না বসে। তবে সবার সহযোগিতা দরকার, পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় এক চিকিৎসককে নিজের কক্ষে বসে ধূমপান করতে দেখে তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। কক্ষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করতে তিনি এ আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছিলেন।
জি ডব্লিউ চৌধুরী: বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেননি যে বাঙালি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী
অর্থনীতির নোবেল, আস্থার সংকট ও বাংলাদেশের বাস্তবতা
মওদূদী কেন জিন্নাহবিরোধী-২: জিন্নাহবিরোধী মওদূদী, মওদূদীমুখী পাকিস্তান
ভাইব কোডিং থেকে এজেন্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং

