রাজবাড়ীতে সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

রাজবাড়ীতে সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সংস্কৃতি ডেস্ক

গত দুই দশকে অবহেলার কারণে দেশের সাংস্কৃতিক খাত যে স্থবিরতার মুখে পড়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিল্প-সংস্কৃতির হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় পর্যায়ে মনীষীদের যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রোববার (১৯ জুলাই) রাতে রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘বর্ষায় নজরুল’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘোষণার আওতায় সারা বছর দেশজুড়ে নজরুল চর্চা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ দেশের অন্যান্য বরেণ্য মনীষীদের নিয়েও বড় পরিসরে সরকারি উদ্যোগে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও রাজবাড়ীতে বর্তমানে এই খাতে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই স্থবিরতা দূর করে জেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজবাড়ীতে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত অডিটোরিয়াম নির্মাণ করে সাংস্কৃতিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনাও মন্ত্রণালয়ের রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাদের বিকাশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজবাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অ্যাক্রোবেটিকস সেন্টারটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৬ আগস্ট ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য চীন ভ্রমণে যাবে। পাশাপাশি জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের স্বার্থে একটি জাদুঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রাজবাড়ীর ক্রীড়া অবকাঠামোর বেহাল দশা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, শহরের সুইমিংপুলটি বর্তমানে পরিত্যক্ত ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্মের সাঁতার শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং ক্রীড়া চর্চাকে গতিশীল করতে সরকারি অর্থায়নে এটি পুনরায় সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত দুই দশকে কেবল সংস্কৃতি নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের অভাবে এবং অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই সাংস্কৃতিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মনজুর মোরশেদ ও সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায়সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মেধাবীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মূলধারায় নিয়ে আসার এই সরকারি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা। যথাযথ তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীসহ সারা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ