ক্রীড়া ডেস্ক
দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করল স্পেন। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে পরাজিত করে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিজেদের করে নিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। দীর্ঘ ১২০ মিনিটের তীব্র লড়াই শেষে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে এই জয় নিশ্চিত করে স্পেন। এটি স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের ফুটবলাররা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখেন। প্রথমার্ধে স্পেনের পাসিং ফুটবলের দাপটে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে পুরো সময় চাপে থাকতে হয়েছে। বল দখলের লড়াইয়ে ৬৫ শতাংশ সময় বল ছিল স্পেনের খেলোয়াড়দের পায়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের পর এমন পরিসংখ্যান বিরল। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা গোলমুখে কোনো শট নিতে না পারায় তাদের আক্রমণভাগের দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন এবং পরবর্তী সময়ে চোটের কারণে তাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ লিওনেল স্কালোনি, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আধিপত্য অব্যাহত ছিল। ৬৭ মিনিটে লামিন ইয়ামালের বাড়ানো ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের হেড আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দারুণ ক্ষিপ্রতায় প্রতিহত করেন। ৯০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোলটি আসে। নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে হেডের মাধ্যমে গোল করে স্পেনকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস। গোল করার পরপরই স্পেন রক্ষণাত্মক কৌশলে মনোযোগ দেয়।
ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ১১৩ মিনিটে ফেরান তোরেস আরও একটি গোল করার কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল করা হয়। এর আগে ৯৬ মিনিটে মিকেল মেরিনোর একটি গোলও ফাউলের কারণে রেফারি বাতিল করেন। ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করায় এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, ফলে আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তগুলো ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ পুরো ম্যাচে দশটি সেভ করে ব্যবধান বড় হতে দেননি, তবে শেষ পর্যন্ত তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন বিশ্ব ফুটবলে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করল। অন্যদিকে, শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা আর্জেন্টিনা ফাইনালে এসে প্রতিপক্ষের কৌশলের কাছে হার মানল। পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফর্ম করা লিওনেল মেসি ও তার দল ফাইনালে এসে গোল করার সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। স্পেন তাদের ছন্দময় ফুটবল এবং ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন বজায় রেখে বিশ্বকাপ জয়ের এই কৃতিত্ব অর্জন করল। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মাঝে বাঁধনহারা উল্লাস দেখা যায়, যা তাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সাক্ষী হয়ে থাকবে। নতুন এক প্রজন্মের হাত ধরে স্প্যানিশ ফুটবল আবারো বিশ্বমঞ্চের শিখরে নিজেদের অবস্থান জানান দিল।


