ক্রীড়া ডেস্ক
জিম্বাবুয়ে সফরে শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটের জয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর টানা দুই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। হারারেতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাটকীয়তা শেষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডারদের আঁটসাঁট পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে রাখে সফরকারী বোলাররা।
১৪৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নিয়ন্ত্রিত। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের দায়িত্বশীল ফিফটি দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেলেও শেষ ওভারে কিছুটা নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৫ রানের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু দুই উইকেট হারিয়ে দল কিছুটা চাপে পড়ে যায়। তবে শেখ মেহেদী হাসানের ব্যাটে ভর করে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় সিরিজ জয়ের মূলমন্ত্র হিসেবে দলের সমন্বিত পারফরম্যান্সকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথম ম্যাচের পরাজয়ের পর দলের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ভুলগুলো শুধরে নেওয়া হয়েছে। এই কন্ডিশনে কার্যকর খেলার কৌশল নির্ধারণের ফলেই শেষ দুই ম্যাচে জয় পাওয়া সম্ভব হয়েছে। হৃদয় আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
দলের তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন অধিনায়ক। বিশেষ করে স্পিনার রিশাদ হোসেনের সামর্থ্য এবং তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিং দক্ষতার প্রশংসা করেন তিনি। হৃদয় বলেন, তানজিদ একজন মানসম্পন্ন ব্যাটার এবং সে দলের প্রয়োজনে ম্যাচ ফিনিশ করার সক্ষমতা রাখে। নিয়মিত সুযোগের অপেক্ষায় থাকা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দলের প্রয়োজনে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান অধিনায়ক।
উল্লেখ্য, এই টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চাপের মুখে ম্যাচ জয়ের মানসিকতা প্রদর্শনে টাইগাররা যে উন্নতি করেছে, তা ভবিষ্যতের সিরিজগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই জয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক প্রাপ্তি। দলীয় শৃঙ্খলা এবং একক পারফরম্যান্সের মেলবন্ধনে টাইগাররা যেভাবে সিরিজ নিশ্চিত করেছে, তা আগামীতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার রসদ জোগাবে। সিরিজে বল হাতে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা এবং ব্যাটিংয়ে তানজিদের মতো তরুণদের জ্বলে ওঠা ছিল বাংলাদেশের সাফল্যের প্রধান কারণ। সব মিলিয়ে, এই জয় টাইগারদের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের গভীরতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার কার্যকারিতা প্রমাণ করল।


