আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পেরুর রাজধানী লিমার পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকা জুনিনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প। শনিবার রাতে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২১ জন। আকস্মিক এই ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ধসে পড়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
পেরুর জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, শনিবার রাতে পর্যায়ক্রমে ৫.১ এবং ৩.৭ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৪ কিলোমিটার গভীরে এবং দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল ১৮ কিলোমিটার। প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার নামক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে পেরু ঐতিহাসিকভাবেই ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভূমিকম্প এই রিং অব ফায়ার অঞ্চলেই সংঘটিত হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। পেরুর জাতীয় সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৪৮টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরও ১৮টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির শিকার পরিবারগুলোর প্রায় ৩০০ জন সদস্য বর্তমানে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকর্মীরা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির সরকারি ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে মৃতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত থাকলেও, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের অধিকাংশ ঘরবাড়ি মাটির ইট বা ‘অ্যাডোব’ দিয়ে নির্মিত। ভূমিকম্পের তীব্রতায় এই ধরনের কাঠামো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকায় তা মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়েছে, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
লিমা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চুপাকা শহর এবং এর আশপাশের গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে এবং আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আবহাওয়া ও ভূ-তাত্ত্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে।
উল্লেখ্য, ল্যাটিন আমেরিকার দেশ পেরু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কবলে পড়ে। এর আগেও এই অঞ্চলে ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির রেকর্ড রয়েছে। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ধসে পড়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের বিষয়টি এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারি প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।


