আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে টানা দশম রাতের মতো তীব্র সামরিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এবারের দফায় দেশটির কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং অন্যান্য প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষার কথা বলে ওয়াশিংটন এই ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান এই সামরিক অভিযানকে প্রকাশ্যেই ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় তিনি তেহরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে সামান্যতম বিঘ্ন সৃষ্টি বা হামলা করা হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে।
অতীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে না ফেলার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান প্রশাসন এবং তাদের নীতি নির্ধারকরা দেশের ভেতরে ও বাইরে মার্কিন জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, বর্তমান এই সম্প্রসারিত সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে সম্পূর্ণরূপে অপরিহার্য ও যৌক্তিক। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সমাগত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ উদ্বেগ থাকলেও, হোয়াইট হাউসের বর্তমান অগ্রাধিকার তালিকায় এসব বিষয়ের চেয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে ইরানকে কড়া জবাব দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সোমবার এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী কোনো নতুন কৌশলগত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে একই সঙ্গে সংঘাত নিরসনে পর্দার আড়ালে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সীমিত পরিসরে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনাও চলমান রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তেহরানকে কঠিন পরিণতির হুমকি দেন। তিনি সে সময় স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, নিহত প্রতিটি আমেরিকান সেনার রক্তের বদলা নিতে ইরানকে বহু গুণ বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হবে। বর্তমান এই সামরিক অভিযান মূলত সেই প্রতিশোধমূলক প্রতিশ্রুতিরই সরাসরি বাস্তবায়ন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই তীব্র সামরিক উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানালেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান অনড় অবস্থানের কারণে অচিরেই এই সংকট নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।


