প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন সহজ করছে নির্বাচন কমিশন, যুক্ত হচ্ছে নতুন সুবিধা

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন সহজ করছে নির্বাচন কমিশন, যুক্ত হচ্ছে নতুন সুবিধা

নির্বাচন কমিশন ডেস্ক

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় ধরনের ছাড় ও কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি সিস্টেমে আপলোড করা সম্ভব হবে। ফলে বিদ্যমান নিবন্ধন পদ্ধতির একটি সময়সাপেক্ষ ধাপ কমে আসবে, যা প্রবাসী সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিদ্যমান নিয়মে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল মূলত দ্বিমুখী বা দুই ধাপের। প্রবাসীরা আবেদন ফরম জমা দেওয়ার পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর তা মাঠপর্যায়ে তদন্তের জন্য ইসিতে পাঠানো হতো। কমিশন থেকে তদন্ত সম্পন্ন করার পরই কেবল সেসব তথ্য সার্ভারে আপলোড করা সম্ভব হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি সিস্টেমে যুক্ত করা যাবে এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে আবেদন অনুমোদন করা হবে। এতে প্রক্রিয়াটি পূর্বের তুলনায় অনেক দ্রুত শেষ হবে।

একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের (মাইগ্রেশন) ক্ষেত্রেও নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এখন থেকে ভোটার এলাকা হস্তান্তরের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করা হবে। নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে আবেদনকারীরা ঘরে বসেই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ১৫ বছর পর পর নবায়নের সময় ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার একটি প্রস্তাব পর্যালোচনার কথা জানানো হয়েছে। এই কাঠামোগত তথ্যের মাধ্যমে এক পরিবারের সদস্যদের সনাক্তকরণ এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অনুযায়ী এনআইডি তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পাবলিক পরীক্ষার (যেমন: জেএসসি, এসএসসি বা সমমান) সনদের ভিত্তিতে এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখ সংশোধনের কাজ কেবল কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করা হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জেলা বা স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে এই সংশোধনের এখতিয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হয়, যা ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এই তথ্য সংগ্রাহের বয়সসীমা আরও কম করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কমিশন। প্রাথমিক, অষ্টম শ্রেণি বা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের আওতায় এনে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রক্রিয়ার সাথে শুরু থেকেই যুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ