অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণে একনেক সভা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৈঠকে অংশ নিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টাতেই বৈঠকটি শুরু হয় এবং এতে দেশের চলতি ও নতুন মেগা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আজকের এই একনেক সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হতে পারে। সভার প্রাথমিক আলোচনা ও প্রস্তাবিত কার্যসূচি থেকে জানা গেছে, জাতীয় অর্থনীতির অগ্রাধিকার খাতসমূহ—যেমন অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিভিত্তিক সংস্কার, এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সম্পর্কিত বিষয়গুলো প্রধান্য পাচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী জোরদার করার লক্ষে বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
জাতীয় অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই একনেক সভাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিল ও সম্পদের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একনেক সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ মূলত দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কৌশল ও সরকারি ব্যয়ের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন ও যৌক্তিক ব্যয় নির্ধারণ নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলবে।
সভার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, মূল আলোচনা শেষে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত আর্থিক ও কৌশলগত তথ্য তুলে ধরা হবে। সভা শেষে গৃহীত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কিত তথ্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।


