স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ও নেপালের অতিরিক্ত প্রস্তুতিকালের সুপারিশ ইকোসকের

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ও নেপালের অতিরিক্ত প্রস্তুতিকালের সুপারিশ ইকোসকের

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে সুপারিশ করেছে সংস্থাটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইকোসকের এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ প্রতিনিধিত্ব করে অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল যুক্ত করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীলতা বজায় রেখে এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতেই তিন বছরের এই অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল অত্যন্ত অপরিহার্য।

এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) উভয় দেশের আবেদন গভীরভাবে পর্যালোচনা করে। সিডিপির মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদনের বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা সমীচীন বলে মত প্রকাশ করা হয়। সিডিপির সেই ইতিবাচক পর্যালোচনার আলোকেই ইকোসক সাধারণ পরিষদকে আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের আগে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সুপারিশ জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, উল্লেখিত তারিখেই বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণ ঘটার কথা রয়েছে।

ইকোসকের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এলডিসি থেকে দেশের টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণের ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সাধারণ পরিষদ প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করলে প্রাপ্ত অতিরিক্ত সময়ে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কৌশলগত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি-উত্তর পর্বের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ