সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত সহস্রাধিক

সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত সহস্রাধিক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সারা দেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৭ জন শিশু। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার হারও দেখা যাচ্ছে।

বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সম্পর্কিত নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সরকারের স্বাস্থ্য বুলেটিন ও মাঠপর্যায়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলমান এই প্রাদুর্ভাব শিশু স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা সকলেই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তবে আলোচ্য সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিবন্ধিত হয়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, আক্রান্তের প্রাথমিক লক্ষণ ও আনুষঙ্গিক জটিলতার কারণে মৃত্যুর ঘটনাগুলো চিকিৎসকদের নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চার মাসেরও বেশি সময়ে সারা দেশে হাম ও হামের নানা উপসর্গ নিয়ে মোট ৮০৩ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭০৮ জন শিশু এবং গবেষণাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ জন শিশু। শিশু মৃত্যুর এই হার স্বাস্থ্য খাতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংক্রমণের দৈনিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ৩৭ জন শিশুর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ১৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে ৯০৪ জন শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।

রোগীদের হাসপাতাল ব্যবস্থার চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৩৪ জন আক্রান্ত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিপরীত দিকে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৮৩ জন শিশু। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের সেবা প্রদানে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জনে। এদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৪১ জন। আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে হাসপাতালে থেকে নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিতে হয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সফল চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ৯৯ হাজার ২৯৪ জন শিশু ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে গেছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষণ হিসেবে গায়ে র্যাশ উঠা, তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে টিকাদান এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন করা না হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা পুষ্টিহীনতার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুর জীবন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

রোগ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশের প্রতিটি জেলায় ইপিআই টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছে অধিদপ্তর। বিশেষ করে যে এলাকাগুলোতে সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে টিকাদান কেন্দ্রগুলো সক্রিয় রাখার পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ