মালয়েশিয়ায় ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

মালয়েশিয়ায় ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

প্রবাস ডেস্ক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে মিল্লাত হোসেন (৪২) নামে এক বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সকালে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ১০ তলায় কাজ করার সময় আকস্মিকভাবে নিচে পড়ে যান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মিল্লাত হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকার মুন্সিবাড়ির বাসিন্দা মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের আশায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিল্লাত। কুয়ালালামপুরের একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করতেন তিনি। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করার সময় এই অঘটন ঘটে। নিচে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মারাত্মক আঘাত পেয়ে তিনি প্রাণ হারান। নিহতের বড় ভাই শরীফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রবাসে থেকে দীর্ঘদিন কষ্টার্জিত আয়ে পরিবারের দেখাশোনা করছিলেন মিল্লাত। হঠাৎ তাঁর অকাল প্রয়াণে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক হাব মালয়েশিয়া বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য প্রধানতম গন্তব্যগুলোর একটি। দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বিশাল অংশ দেশটির নির্মাণ, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবাখাতে নিয়োজিত থাকেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে কাজ করার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকা কিংবা অসাবধানতার কারণে প্রায়শই বিভিন্ন অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের জায়গায় আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন প্রবাস কল্যাণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সাধারণত প্রবাসে কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে মরদেহ ফেরত আনা এবং ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি বেশ প্রশাসনিক নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হয়। নিহতের স্বজনদের মতে, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে আনার বন্দোবস্ত করা এবং সরকারি প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সাময়িকভাবে হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সিংহভাগ প্রবাসী শ্রমিকই থাকেন তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মিল্লাত হোসেনের মতো শ্রমিকের মৃত্যু কেবল একটি জীবনের অবসান নয়, বরং একটি পুরো পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের ধাক্কা। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নিহত কর্মীর পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রবাস শীর্ষ সংবাদ