জাতীয় ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সম্পর্কিত রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পিকার স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই এবং চিকিৎসার কাজ দ্রুত শেষ হওয়ায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরেছেন।
সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সফর করার কারণে তিনি দেশের বাইরের অবস্থান করছিলেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা বা সম্ভাব্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত কোনো অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। স্পিকারের মতে, বিষয়টি এখনো পুরোপুরি অনুমাননির্ভর। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক কাঠামোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পেশ করতে হয়।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কেমন হবে—তা স্পষ্ট করেন সংসদ স্পিকার। তিনি জানান, দেশের প্রচলিত সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে পরবর্তী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করবেন। এটি একটি প্রথাগত ও আইনগত ধারাবাহিকতা। একই সঙ্গে সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।
মূলত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। পূর্বপরিকল্পিত সূচি অনুযায়ী তার আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত নানা গুঞ্জন ও আলোচনা জোরালো হয়ে ওঠার পরদিনই তার আগাম প্রত্যাবর্তন এই জল্পনাকে আরও ঘনীভূত করে। তবে আগাম ফেরার বিষয়ে তিনি জানান, তার চিকিৎসাসংক্রান্ত সব শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি সফর সংক্ষেপ করে ফিরে এসেছেন।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নয়। এর আগে ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তৎকালীন সংবিধান অনুসরণ করে তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৮ দিন রাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
চলমান পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ পদের পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চললেও, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী সংবিধানের বিধান অনুসরণ করেই যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কিংবা পদে বহাল থাকার বিষয়টি তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ গৃহীত হবে।


