দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু

দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু

জাতীয় ডেস্ক

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ সার্বিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৮১০ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। মোট মৃত্যুর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া শিশুর সংখ্যা ৯৫। অন্যদিকে, হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে ৭১৫ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একই সময়সীমায় সারা দেশে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯৪ জন। এ ছাড়া ভাইরাসটির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে এসেছেন মোট ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জন রোগী। আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জনকে। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। এটি শিশুদের মধ্যে জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা, যেমন নিমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) এবং অন্ধত্বের অন্যতম কারণ হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা এবং টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুরা এ রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু থাকা সত্ত্বেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই সংখ্যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী ৯ মাস পূর্ণ হলে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মহামারী ও সার্বিক অসচেতনতার কারণে অনেক শিশু টিকাদানের আওতা থেকে বাদ পড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত এবং সম্ভাব্য আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবক ও সর্বসাধারণের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংক্রমণ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে আসন্ন দিনগুলোতে শিশু মৃত্যুর এই হার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ