জাতীয় ডেস্ক
শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বিকেল সাড়ে চারটায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের মাধ্যমে তিনি তার পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে জমা রয়েছে বলে বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি তার একাধিক জটিল শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি বিস্তারিতভাবে তার বর্তমান স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং বৃক্কের (কিডনি) জটিলতাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার তথ্যও পত্রে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি এক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামক এক বিরল রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের প্রভাবে তিনি হঠাৎ করেই কিছু সময়ের জন্য সংজ্ঞাহীন বা অচেতন হয়ে পড়েন বলে পত্রে জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার দীর্ঘমেয়াদী এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণ করে স্বপ্রণোদিতভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগপত্র পেশ করেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের এই উদ্ভূত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেছেন। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে এখন পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।


