বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশে একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশে একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশে একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করে এই খাতের বিকাশ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকার ব্যবসাবান্ধব নীতি, কর সুবিধা, বন্ডেড সুবিধা এবং কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত নভো থিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, এআই অ্যান্ড রোবোটিক্স (বিইএআর) সামিট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই দুই দিনব্যাপী সামিটের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের যুগে সেমিকন্ডাক্টর বা মাইক্রো-চিপকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ডাটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন, চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বত্র সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য। বৈশ্বিক বাজারে চিপের চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২০২৬ সালের মধ্যেই প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে প্রবেশ করে দেশের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার এখনই উপযুক্ত সময়।

তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ সফলভাবে পূরণ করতে পারবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী কর্মরত আছেন। প্রবাসে থাকা এসব দক্ষ প্রকৌশলী, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের দেশের সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

দেশে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, ট্রেনিং, এমবেডেড সিস্টেম ও অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং খাতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই শিল্পের স্বার্থে সরকার বাজেটে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সব ধরনের কাঁচামালের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্ট-আপ অনুদান বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার একাংশ ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

দক্ষতার ঘাটতি, ল্যাব ও মূলধনের সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, স্থানীয় শিল্প ও উদ্ভাবকদের সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত রাখবে সরকার।

অর্থ বাণিজ্য জাতীয় শীর্ষ সংবাদ