আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের জাপোরিজিয়া অঞ্চলের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত কিরিলিওকা শহরের একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আজভ সাগরের উপকূলীয় এই পর্যটন কেন্দ্রে চালানো হামলায় আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মস্কো। রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বেসামরিক বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ হামলা ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি কিইভ। ২০২২ সালে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই উভয় পক্ষ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
একই দিনে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের সামরিক রসদবাহী জাহাজে হামলার দাবি জানিয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন প্রযুক্তির অগ্রগতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সীমান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে সাইবেরিয়ার তিউমেন অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার এবং সাতশ কিলোমিটার দূরে কাস্পিয়ান সাগরের ‘ফিলানভস্কি’ তেল প্ল্যাটফর্মে সফল ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ)। স্থানীয় রুশ কর্তৃপক্ষ সাইবেরিয়ার শোধনাগারে ড্রোন হামলা ও পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে।
কাস্পিয়ান সাগরে ক্ষতিগ্রস্ত তেল প্ল্যাটফর্মটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক সম্পদ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘লুকওয়েল’-এর অধীনস্থ। যুদ্ধের এ পর্যায়ে সীমান্ত থেকে বহুদূরে অবস্থিত রুশ জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কৌশল নিয়েছে ইউক্রেন। দীর্ঘপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়িয়ে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে চাপে ফেলা এবং ক্রেমলিনকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করাই কিইভের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
পাল্টাপাল্টি এই হামলা যুদ্ধের সার্বিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করছে। একদিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ডে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়াচ্ছ, অন্যদিকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে ইউক্রেনের অবকাঠামোগত আঘাত দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল রূপ দিচ্ছে।


