অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে জাপানের অবদান অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, জাপান বাংলাদেশের এক পুরোনো ও নির্ভরযোগ্য মিত্র এবং যেকোনো সংকটে দেশটি সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে দুই দেশ একযোগে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রোববার রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘জাপান-বাংলাদেশ বিজনেস উইমেন কনফারেন্স’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন এবং সার্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে নারী অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নারীশিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তি তৈরিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার যুগান্তকারী অবদান রয়েছে। নারীদের মাধ্যমিক শিক্ষা অবৈতনিক করার মতো দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলেই আজ জাতীয় অর্থনীতিতে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ সম্ভব হয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার নারীশিক্ষার সীমানা আরও বিস্তৃত করেছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রধান প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (জেবিসিসিআই)-এর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। এছাড়া দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও উদীয়মান নারী উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং তা গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জাপানের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠান শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আগামীতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


