ইউএইতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা নিরসনে ঢাকার আহ্বান, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জোর

ইউএইতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা নিরসনে ঢাকার আহ্বান, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জোর

জাতীয় ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিদ্যমান নানা সমস্যা ও জটিলতা নিরসনে দেশটির সরকারের কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ সুরক্ষা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঢাকায় নিযুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল হামুদি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তার দপ্তরে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকটির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের অমলিন বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের নানা দিক পর্যালোচিত হয়। একই সঙ্গে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও ফলপ্রসূ করতে উভয় পক্ষ গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে।

বৈঠককালে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, সুনিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক অধিকার, কল্যাণ ও বৈধ স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর অবদান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে তাদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিরসন করা দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক বজায় রাখার স্বার্থেই জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যকার প্রশাসনিক ও আইনি যোগাযোগ সহজ করতে ২০২৬ সালের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ-ইউএই দ্বিতীয় যুগ্ম কনস্যুলার কমিটি’র বৈঠক আয়োজনে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এই প্রস্তাবিত যুগ্ম কনস্যুলার বৈঠকে দুই দেশের কনস্যুলার সেবা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, আইনি সুরক্ষা এবং শ্রম অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক বিষয় নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে কাজের সুনির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কনস্যুলার বিষয়ে পর্যালোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ, জ্বালানি খাত, ভারী ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের প্রসার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

দুই দেশই প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) বিষয়ক আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করে চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে নিজেদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। অর্থনীতিবিদ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিইপিএ স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে। এটি উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

এ ছাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করতে ‘বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ ব্যবসায়িক কাউন্সিল’ পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করার উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুই পক্ষ একমত পোষণ করে। সুবিধাজনক সময়ে এই কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পথ সুগম করা সম্ভব হবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সহায়তার উদাহরণ টেনে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ওয়াদি উরাইয়াহ ন্যাশনাল পার্ক’-কে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ সমর্থনের জন্য ঢাকা ও বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং দুই দেশের জনগণের অভিন্ন কল্যাণ সাধনে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের অংশীদারিত্ব বজায় রাখার আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ