রেকর্ড ছুঁল সোনার দাম: ভরিতে বাড়ল ২,২১৬ টাকা

রেকর্ড ছুঁল সোনার দাম: ভরিতে বাড়ল ২,২১৬ টাকা

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম ফের বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায়। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্যসূচি কার্যকর করা হয়েছে।

আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ব্যাপ্ত মূল্য সমন্বয়ের ফলে মূল্যবান এই ধাতুটির বাজার দর এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পর্যালোচনায় অবস্থান করছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা পাকা সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশে সোনার এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায়, যা গতকাল পর্যন্ত ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন বিক্রয়মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন ঘোষিত দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার ৯৭৪ টাকা।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে অলংকার সংক্রান্ত ধাতুর মূল্যের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণেই মূলত বাজুসকে এই সমন্বয়ের পথে হাঁটতে হয়েছে। সোনার এই ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ গ্রাহক ও অলংকার শিল্পে। হঠাৎ দাম বাড়ার কারণে বিবাহ বা অন্যান্য পারিবারিক অনুষ্ঠানে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে। একই সাথে জুয়েলারি ব্যবসায় বেচাকেনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ স্বর্ণশিল্পের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন এই মূল্য তালিকা সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে অনুসৃত হবে। বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্ধারিত দামে পণ্য কেনাবেচার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ