বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে বদলি ও পদায়নে নতুন নীতিমালা জারি, গঠন করা হচ্ছে ৩ স্তরের কমিটি

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে বদলি ও পদায়নে নতুন নীতিমালা জারি, গঠন করা হচ্ছে ৩ স্তরের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া অধিকতর সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন এই নিয়মে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও কর্মস্থলভেদে পৃথক তিন স্তরের কমিটির মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে সম্প্রতি ‘বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে নীতিমালার কপি প্রকাশের মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হয়েছে। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই নতুন নির্দেশনা জারির পর থেকে বদলি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সকল নীতিমালা ও আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।

ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম স্তরে সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অঞ্চলভিত্তিক গঠিত কমিটি। আঞ্চলিক পরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্থা বা দপ্তরের পদ ব্যতীত নিজ নিজ অঞ্চলের সরকারি কলেজের উক্ত দুই পদের বদলি প্রক্রিয়া এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।

দ্বিতীয় স্তরে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের শিক্ষকদের বদলি আবেদন নিষ্পত্তি করবে। এই কমিটি ঢাকা মহানগরী এবং অন্যান্য অধিদপ্তর বা সংস্থার পদ ব্যতীত দেশের অন্যান্য স্থানের সহযোগী শিক্ষকদের পদায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ জারি করবে।

তৃতীয় ও সর্বোচ্চ স্তরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বা সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থায় নিয়োজিত সকল পদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।

নীতিমালায় বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকসহ যেকোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে একটি পদে ন্যূনতম দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করা আবশ্যক করা হয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তা গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি বা জরুরি পারিবারিক সংকটে পড়লে উপযুক্ত যুক্তি প্রদর্শন সাপেক্ষে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেও আবেদন করতে পারবেন, যা বিবেচনার পূর্ণ এখতিয়ার রাখবে সরকার।

সহযোগী ও কল্যাণমূলক কিছু ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়, চাকরিজীবী দম্পতির ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের কাছাকাছি বা সুবিধাজনক প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর পূর্বে শূন্য পদ সাপেক্ষে কর্মকর্তাদের পছন্দের স্থানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়ন করা হবে। দূরারোগ্য ব্যাধি, পারিবারিক জটিলতা এবং নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের ভৌগোলিক দূরত্বের বিষয়গুলোও আবেদনে বিবেচনা করা হবে।

তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে যে, কোনো প্রার্থীর পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) হালনাগাদ না থাকলে বা অসম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহ করা হলে সেই আবেদন সরাসরি বাতিল হবে। এছাড়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা কিংবা তদন্তাধীন কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি বদলির অযোগ্য হবেন। পাশাপাশি বিগত তিন বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক হওয়া বাধ্যতামূলক হিসেবে গণ্য হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আসবে এবং দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস পাবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ