আইন ও বিচার ডেস্ক
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে।
আদালতের কার্যক্রম শেষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তার পক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানিকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া ও লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পূর্বে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গত ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ১০ জনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। একই সাথে পরবর্তী শুনানির দিন ১৬ আগস্ট ধার্য করা হয়।
এই মামলায় এ পর্যন্ত সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির শাহরিয়ার কবির এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য মামলায় কারাবন্দী থাকা হাসানুল হক ইনু ও আবদুর রাজ্জাককেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার অবশিষ্ট আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগে প্রধানত দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুলি বর্ষণ ও নির্যাতনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই ঘটনাগুলোকে গণহত্যা, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে।


