রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টিক (এনসিপি) বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির নামে ভণ্ডের বন্দোবস্ত কায়েম করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপি মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কৌশল ও নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত একটি কৌশলী রাজনৈতিক দল। তারা একদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে এবং জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বক্তব্য দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজপথে সরকারবিরোধী নানা তৎপরতা চালাচ্ছ। জামায়াত এনসিপির নেতাদের ব্যবহার করে বিএনপির শীর্ষ ও স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, এনসিপির নেতারা যদি গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনীতির পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা করেন, তবে রাজনৈতিকভাবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে সরকার ও সরকারি দল প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জামায়াত ও এনসিপির যৌথ রাজনৈতিক কৌশল ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঝিনাইদহ জেলার বিদ্যমান সমস্যা, সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এবং নাগরিক সুবিধার নানা দিক সভায় তুলে ধরেন।
মতবিনিময়সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনসহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁরা জেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে রাশেদ খান স্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থাপিত সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ঝিনাইদহের স্থানীয় সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


