অপরাধ ডেস্ক
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে ১১২ জনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জন এজাহারনামীয় এবং আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি এজাহারভুক্ত (এফআইআর) করা হয়েছে এবং এর কপি ইতোমধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ ও ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত হয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। পরবর্তীতে সেই অভিযোগটি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান রিয়াজ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম ইমন, পৌর ছাত্রদল নেতা মুজাক্কির হোসেন, ছাত্রদল নেতা এম এইচ শিমুল, বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রদল নেতা আল সাইমন, জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান ইসতি, শেখ সাব্বির, নাজমূল হোসেন অবি এবং রক্সি ইসলাম।
এদিকে, দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান আসামি ও হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনসহ বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি একাধিক মামলার মুখোমুখি হলেও এই নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে তিনি বা তার সংগঠনের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তাকে ভিত্তিহীনভাবে প্রধান আসামি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ওপর আক্রমণ এবং পরবর্তীতে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের আসামি করে মামলা দায়েরের ঘটনাটি জেলা পর্যায়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


