যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবারে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে এ তথ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদ রনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুই নেতার মধ্যে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও নিবিড় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্পখাতে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন উভয় প্রতিনিধি।

বিশেষ দূত সার্জিও গর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা ও অবস্থানের প্রশংসা করেন। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে নতুন নতুন খাতে যৌথ সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনে তারা আন্তরিক বলে আশ্বস্ত করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা, নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তাও এ বৈঠকে উঠে আসে।

তিন দিনের কূটনৈতিক সফরে গত ৩০ জুলাই ঢাকায় পৌঁছেন যুক্তরাষ্ট্রের এ বিশেষ দূত। ঝটিকা এই সফরের প্রথম দিনই তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে কূটনৈতিক চ্যানেল বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ প্রতিনিধির আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। ঢাকা অবস্থানকালে তিনি দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের বিশিষ্ট সদস্য, অর্থনীতিবিদ ও শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এ সমস্ত বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তার এ সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পোশাক শিল্প রফতানি, অর্থনৈতিক সহায়তা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভূ-রাজনৈতিক অক্ষের ভারসাম্য রক্ষায় এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ