সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ইতিবাচক সপ্তাহে পার করল শেয়ারবাজার

সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ইতিবাচক সপ্তাহে পার করল শেয়ারবাজার

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের পুঁজিবাজারে বিদায়ী সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন—উভয় সূচকেই ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৬ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সমাপ্ত পাঁচ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটেছে। একই সঙ্গে সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে বাজারটিতে ইতিবাচক গতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারের সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বা ৯১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর অন্যান্য সূচকগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় ছিল। ব্লু-চিপ বা বাছাইকৃত কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা পূর্ববর্তী সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্ট। এছাড়া ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ১২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৫ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক ৩১ শতাংশ। পুরো সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে মোট ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে।

আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দর বৃদ্ধির তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৬৪টি সিকিউরিটিজ, বিপরীতে দর কমেছে ৮৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির বাজারদর। বাকি ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শেয়ার বা ইউনিট লেনদেন হয়নি। ডিএসইর বাজার সূচক ঊর্ধ্বমুখী রাখতে যেসব প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, পূবালী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস।

খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। পুরো সপ্তাহের মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এককভাবে দখল করে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে এই খাতটি। ১২ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১০ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে প্রকৌশল খাত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। এছাড়া ১০ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে সাধারণ বিমা খাত চতুর্থ এবং ৭ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভাগ নিয়ে ব্যাংক খাত পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

বিনিয়োগের রিটার্নের দিক থেকেও সাধারণ বিমা খাত শীর্ষে অবস্থান করেছে। বিদায়ী সপ্তাহে এই খাতটি থেকে সর্বাধিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্য খাতের মধ্যে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, সেবা খাতে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিবিধ খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, অল্প কয়েকটি খাতে ঋণাত্মক বা নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দশমিক ৭ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিমেন্ট খাতে। এছাড়া কাগজ খাতে দশমিক ৪ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান উভয় খাতে দশমিক ১ শতাংশ করে নেতিবাচক রিটার্ন পরিলক্ষিত হয়।

একই গতিধারা বজায় ছিল দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই দশমিক ৯০ শতাংশ বা ১৪০ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৭৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে।

সমাপ্ত সপ্তাহে সিএসইতে মোট ১৭০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। বাজারটিতে হাতবদল হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৮৮টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ১১৩টির দর কমেছে এবং ২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত অবস্থায় দিন শেষ করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ও ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সার্বিক সূচকে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের তহবিল প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে পুঁজিবাজারে লেনদেনের গতিশীলতা বজায় রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং খাতভিত্তিক মুনাফার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগকারীরা সতর্কতার সাথে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

অর্থ বাণিজ্য জাতীয়