অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তুতকৃত প্রস্তাবিত লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের প্রাথমিক নকশা ও পরিচালনা রূপরেখা প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। গত বছরের ১৭ নভেম্বর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেযাদী চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আনুমানিক বিনিয়োগে নির্মিতব্য এই প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশের প্রথম শতভাগ সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ভিত্তিক কনটেইনার টার্মিনাল। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের শেষের দিকে নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনালে ১০.৫ মিটার ড্রাফটের ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটি থাকবে। পরিচালনা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে এখানে ৭টি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার টায়ারযুক্ত গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজিস) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্রাক্টর (ইটিটিএস) সংযোজন করা হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ২,৭০০ টিইইউ (টুয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারলেও, নতুন এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে ৬,০০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার আন্তর্জাতিক মেইনলাইন কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভিড়তে সক্ষম হবে। বাৎসরিক ৮ লাখ টিইইউ-র বেশি কনটেইনার পরিবহনের সুবিধাসহ এই প্রকল্প চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক ধারণক্ষমতা প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। নতুন এই টার্মিনাল চালু হলে কলম্বো বা সিঙ্গাপুরের মতো আঞ্চলিক হাবগুলোতে অতিরিক্ত ট্রানজিট সময় এবং ছোট ফিডার জাহাজের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। সরাসরি শিপিং রুট চালুর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের লিড টাইম ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত কমে আসবে, যা জাতীয় লজিস্টিকস ব্যয় হ্রাসসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প, ওষুধ ও চামড়াশিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।


