পুনরায় সাফ সভাপতি পদে কাজী সালাউদ্দিন: নেপাল ও ভুটানের সমর্থনে নিরঙ্কুশ জয়

পুনরায় সাফ সভাপতি পদে কাজী সালাউদ্দিন: নেপাল ও ভুটানের সমর্থনে নিরঙ্কুশ জয়

খেলাধুলা ডেস্ক

দক্ষিণ এশীয় ফুটবল সংস্থার (সাফ) সভাপতির পদে আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক তারকা ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হলেও দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের এই সর্বোচ্চ অভিভাবক সংস্থায় নিজের অবস্থান ধরে রাখলেন তিনি। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে আয়োজিত সাফের বার্ষিক সাধারণ সভায় (কংগ্রেস) এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় মনোনয়ন জমা ও প্রত্যাহারের পর থেকেই কাজী সালাউদ্দিনের পুনঃনির্বাচিত হওয়া কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় ছিল। সাফের অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে সেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফকে নতুন নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৮ সালে বাফুফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো সাফ সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন কাজী সালাউদ্দিন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। পূর্বে সাফের মূল গঠনতন্ত্রে সভাপতি পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ এবং বয়সসীমা ৭০ বছর নির্ধারিত ছিল। তবে গত বছর এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এই সীমাবদ্ধতাগুলো বিলুপ্ত করা হয়। এর ফলে কাজী সালাউদ্দিনের জন্য পুনরায় এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ সুগম হয়।

সাফের নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সাফের অন্তত দুটি সদস্য দেশের সমর্থন ও প্রস্তাবের প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাফুফে তাকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ থেকে বিরত থাকে। এমতাবস্থায় বাফুফের সমর্থন না পেয়ে সালাউদ্দিন দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দুই ফুটবল সদস্য দেশ নেপাল এবং ভুটানের প্রস্তাব ও সমর্থনে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এদিকে সাফের নির্বাচনী চূড়ান্ত পর্বের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত কংগ্রেস সভায় আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কর্তৃক নেপালের ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়েও বিশদ আলোচনা করা হয়। ফিফার আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে সাফের নীতিগত সিদ্ধান্তে জানানো হয় যে, নেপালকে তাদের প্রশাসনিক জট ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি নেপাল তাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে সক্ষম হয়, তবেই কেবল তারা আসন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে; অন্যথায় তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে হবে।

অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত ড্র অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে নেপালের ফুটবল সংস্থা ফিফার সবুজ সংকেত পেলে টুর্নামেন্টে আয়োজক বাংলাদেশের গ্রুপেই অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায় টুর্নামেন্ট পুনর্নির্ধারিত সূচি এবং বিন্যাসে অনুষ্ঠিত হবে। কাজী সালাউদ্দিনের নতুন এই মেয়াদকালে দক্ষিণ এশিয় ফুটবলের উন্নয়ন এবং ফিফা ও এএফসি-র সঙ্গে সাফভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্ক জোরদারে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ