আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুসারে, কিয়েভে চালানো রাশিয়ার মারাত্মক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন। ইউক্রেনের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ও প্রশাসনিক এলাকায় সামরিক হামলা জোরালো হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই হতাহতের ঘটনা সামনে এলো।
রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারককারী স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর কিয়েভের অন্তত পাঁচটি প্রধান জেলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একাধিক বহুঝলক আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসামরিক পরিবহনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো থেকে আটকে পড়া বাসিন্দাদের বের করে আনতে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মতে, আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন, যাতে কোনো ব্যক্তি আটকা পড়ে থাকলে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সশস্ত্র সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে এই ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক মানবিক পরিস্থিতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে ঘনবসতিপূর্ণ জেলাগুলোকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা পরিচালনার ফলে কিয়েভের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কিয়েভজুড়ে সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, বেসামরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি মানবিক সংকটের ব্যাপ্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।


