জাতীয় ডেস্ক
পতনপরবর্তী প্রেক্ষাপট ও প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর রাজপথে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও চক্রান্ত সৃষ্টির সুযোগ নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে দেশের স্বার্থে সবাইকে দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বিগত দেড় দশকের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে টানা আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসের সঙ্গে অভিজ্ঞ রাজনীতি ও দীর্ঘ সংগ্রামের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটার মধ্য দিয়েই জনগণের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে গণতান্ত্রিক এই উত্তরণের পর কারো রাজনৈতিক বিভ্রান্তিতে থাকার সুযোগ নেই। বর্তমানে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত দেশ গড়ার কাজে ভূমিকা রাখা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা সম্পর্কে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, একটি পক্ষ দেশ পুনর্গঠনের মূল ধারায় মনোযোগ না দিয়ে সংসদের বাইরে রাজপথে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। সরকার এসব চক্রান্তের গভীরতা এবং প্রকৃতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। জনগণের দেওয়া মান্ডেট রয়েছে বলেই সরকার ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজন হলে সরকার অত্যন্ত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলন কারো কাছে পেশা বা রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, কিন্তু একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। সেসব মূল লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর এখন সর্বাত্মক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করাই সরকারের একমাত্র অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে মুখ্য উদ্বোধকের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুঃশাসন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী সত্য ইতিহাস ও জনগণের ত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে সামাজিক সাম্য ও গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নিপীড়ন কিংবা মানুষের স্বাভাবিক অধিকারে আঘাত হানা কোনোভাবেই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি এসব অপসংস্কৃতি রুখতে সরকারের তড়িৎ ও কঠোর ভূমিকার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত সরকারের আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজপথের সংগ্রামের ধারাবাহিকতাতেই জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন সফল রূপ লাভ করেছিল। বিজয়ী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টি না করে পতিত রাজনৈতিক শক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক গণআন্দোলন ছিল দল-মত নির্বিশেষে পুরো জাতির যৌথ প্রয়াস। সেখানে একক কৃতিত্ব দাবি করার সুযোগ নেই। আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও মা-বোনদের আত্মত্যাগকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি গণঅভ্যুত্থানকে পুঁজি করে দেশে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংকটকালে জীবন ঝুঁকি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করায় আলোকচিত্র সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা বিপিজেএ গ্যালারিতে রক্ষিত বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুর্লভ আলোকচিত্রসমূহ ঘুরে দেখেন।


