মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আর যেন ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আর যেন ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে ওঠা বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রক্তক্ষয়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও জাতীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম এবং চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোরস্মৃতি ধারণ করে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী গত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের নানা প্রতিকূলতা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে দেশের জনগণ যে অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আন্দোলনের নেপথ্য নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী এই গণ-অভ্যুত্থানের মূল কারিগর ও প্রেরণা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্দোলনের কঠিন সময়ে দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অভিমুখে নেতৃত্ব দিতে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছেন। সারা দেশের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে রাজপথের লড়াইকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই দূরদর্শী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল অন্যায়, অবিচার ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের এক আত্মত্যাগী প্রতিরোধ। দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের অদম্য সাহসের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। বিশেষ করে, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন মন্ত্রী ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রদর্শনীটিতে বিগত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত, বিরোধী মত দমনে তৎকালীন শাসনব্যবস্থার নির্মম দমন-পীড়নের চিত্র এবং বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভয়াল ও বীরত্বপূর্ণ সময়গুলোর দুর্লভ আলোকচিত্র স্থান পায়। প্রদর্শনীতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা জানান, এসব স্থিরচিত্র কেবল অতীতের স্মৃতিচিহ্ন নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের জন্য এক ঐতিহাসিক দলিল, যা ভবিষ্যতেও যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে প্রেরণা জোগাবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিহাসকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ