খেলাধুলা ডেস্ক
আর্জেন্টাইন ফুটবলের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করে ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে চলছেন হাইতিতে জন্ম নেওয়া তরুণ ফুটবলার কিকি রামোস (স্টেফান রামোস)। ২০১০ সালে মাত্র আট-নয় মাস বয়সে হাইতির ভয়াবহ ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। পোর্ট অব প্রিন্সে অনাথ আশ্রম থেকে এক আর্জেন্টাইন পরিবারের মাধ্যমে দত্তক নিয়ে তাকে আর্জেন্টিনায় আনা হয়। এরপর বুয়েনস আইরেসে বেড়ে ওঠা এই তরুণ ছয় বছর বয়সে জনপ্রিয় ক্লাব ভেলেজের যুব অ্যাকাডেমিতে ফুটবলে হাতেখড়ি নেন। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর সম্প্রতি তিনি জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল দলে। এর মাধ্যমে তিনি হাইতিতে জন্মগ্রহণকারী প্রথম ফুটবলার হিসেবে আর্জেন্টিনার আকাশি-নীল জার্সি গায়ে জড়ানোর অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি ইকুয়েডরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে তার অভিষেক ঘটে। আতালান্তার লেওন কোলবোভস্কি স্টেডিয়ামে আয়োজিত দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে চমৎকার একটি গোল করে সমতায় ফেরান কিকি রামোস। গতিশীল ড্রিবলিং ও আক্রমণভাগের কার্যকর ভূমিকার কারণে দলটির প্রধান কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের বিশ্বকাপ ভাবনায় এখন বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বিশ্বমঞ্চে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশের নতুন ফরম্যাটে গ্রুপ ‘সি’-তে প্রতিপক্ষ হিসেবে ডেনমার্ক, মোজাম্বিক ও অস্ট্রেলিয়াকে পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। রামোসের এই পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার পথ আরও সুগম করেছে।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সম্প্রতি আর্জেন্টিনা ঘিরে ওঠা বৈষম্য ও বর্ণবাদের অভিযোগে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন কিকি রামোস। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে লাতিন আমেরিকার দেশটিকে ঘিরে বর্ণবাদের নানা বিতর্ক তোলা হলেও রামোস সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, আর্জেন্টিনায় শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কখনোই কোনো প্রকার সামাজিক বৈষম্য বা বর্ণবাদী আচরণের মুখোমুখি হননি। তার মতে, অন্য যেকোনো সাধারণ আর্জেন্টাইন নাগরিকের মতোই তাকে সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করেছে সে দেশের ফুটবল সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থা। কিকি রামোসের মতে, আর্জেন্টিনাকে বর্ণবাদী দেশ হিসেবে যারা চিত্রায়িত করার চেষ্টা করে, তারা বাস্তব অবস্থা না জেনে স্রেফ অভিযোগের খাতিরেই কথা বলে।
জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মুহূর্তটি স্মরণ করে কিকি রামোস জানান, সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছ থেকে বার্তা পেয়ে প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। পরবর্তীতে ফিটনেস কোচের অফিসিয়াল বার্তা পাওয়ার পরপরই আনন্দে ক্লাসের পড়াশোনা থামিয়ে বাবা-মাকে এই ঐতিহাসিক সুখবর জানান। শৈশবে মাতৃভূমি হাইতি ত্যাগ করলেও তার পরিচিতি ও ফুটবল জীবন সম্পূর্ণভাবে আর্জেন্টাইন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গেই আবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকেই তার পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে।


