বিনোদন ডেস্ক
জনপ্রিয় ড্রামা সিরিজ ‘দ্য সোপ্রানোস’-এ অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কোটি দর্শকের মন জয় করা প্রখ্যাত অভিনেতা ভিনসেন্ট পাস্তোরের প্রয়াণে হলিউড ও আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কয়েক দিন ধরে বন্ধু ও সহকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা তার নিউইয়র্কের সিটি আইল্যান্ডে অবস্থিত নিজ বাসভবনে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
পাস্তোরের দীর্ঘদিনের ম্যানেজার বব ম্যাকগোয়ান অভিনেতার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। আরেক প্রখ্যাত অভিনেতা ভিনসেন্ট কুরাতোলা শনিবার তাকে এই নিভৃতপ্রয়াণের সংবাদ জানান বলে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়। পাস্তোরের দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি রবার্ট অ্যাটারম্যান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ভিনসেন্ট পাস্তোরে কেবল একজন সফল অভিনেতা ছিলেন না, বরং মানুষ হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত হৃদয়বান ও উদার। ভক্তদের যেকোনো অনুরোধ তিনি সবসময় হাসিমুখে মেনে নিতেন এবং নতুন প্রজন্মের উঠতি অভিনেতাদের নিয়মিত পরামর্শ ও উৎসাহ দিতেন। সমাজসেবা ও দাতব্য কর্মকাণ্ডেও তার নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ছিল।
‘দ্য সোপ্রানোস’ সিরিজে পাস্তোরের সহশিল্পী মাইকেল ইম্পেরিওলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, পাস্তোরের সঙ্গে বহু বছরের বন্ধুত্ব, যৌথ কাজ এবং ভ্রমণের স্মৃতি তার জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। তিনি প্রয়াত অভিনেতার পরিবার ও ভক্তদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
১৯৩৭ সালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে জন্মগ্রহণ করা ভিনসেন্ট পাস্তোরে তরুণ বয়সে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন নৌবাহিনীতে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক সেবা শেষে তিনি বিখ্যাত পেস ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন। পরবর্তীতে আশির দশকে বিনোদন জগতে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে তার নতুন জীবন শুরু হয়।
১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মার্টিন স্করসেসির বিখ্যাত ক্রাইম-ড্রামা চলচ্চিত্র ‘গুডফেলাস’ এবং রবার্ট ডি নিরো ও রবিন উইলিয়ামস অভিনীত ‘অ্যাওয়েকেনিংস’-এ ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পাস্তোরে নিজের জাত চেনান। তবে তার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া এইচবিওর কালজয়ী টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য সোপ্রানোস’-এর মাধ্যমে। মাফিয়া ক্রাইম সিন্ডিকেটের পটভূমিতে নির্মিত এই সিরিজের প্রথম তিন মৌসুমে ৩০টি পর্বে ‘সালভাতোরে বিগ পুসি বনপেনসিয়েরো’ চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে স্থান করে নেয়।
চরিত্রটিতে মূল গল্পের নাটকীয় মোড় এবং মানসিক টানাপোড়েন যেভাবে তিনি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে ব্যাপক খ্যাতি ও সমালোচকদের প্রশংসা এনে দেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন চলচ্চিত্র, টেলিভিশন শো এবং থিয়েটারেও তাকে নিয়মিত কাজ করতে দেখা গেছে।
মৃত্যুকালে তিনি তার একমাত্র কন্যা রেনি পাস্তোরেসহ অসংখ্য অনুরাগী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তার বিদায়ে আন্তর্জাতিক অভিনয় অঙ্গন একজন গুণী ও নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীকে হারাল।


