ডেস্ক
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী ও রাউজান থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যা এবং অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুটি মামলায় আসামিকে গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে দুটি মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড আদেশ প্রদান করেন।
নথি পর্যালোচনা ও পুলিশ প্রশাসনের তথ্যমতে, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার মূল তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পরীক্ষা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। তদন্তের সূত্র ধরে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি নিয়ে ধামা ইলিয়াছকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি স্থানীয় আঞ্চলিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্রের মজুদ স্থান এবং চক্রের অন্যতম মূলহোতা ও সহযোগীদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করেন।
ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ও গোপন সংবাদের জোরালো সূত্র ধরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশ যৌথভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। একই স্থান থেকে তার সাথে থাকা অপর তিন সহযোগী আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮) এবং মো. সাফায়েত হোসেনকেও (২৪) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় যৌথ অভিযান পরিচালনাকারী দল।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরী এবং চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একক ও সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, বেআইনি অস্ত্র পরিবহন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো মারাত্মক অপরাধে মোট ১৩টি মামলা দায়ের রয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করছেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী অপরাধের পেছনের মূল নকশাকারী হিসেবে এই সন্ত্রাসী চক্রের সম্পৃক্ততা ছিল। আসামিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং এই আঞ্চলিক অপরাধ চক্রের অর্থায়নের উৎস চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।


