চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে, চলছে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে, চলছে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ

অপরাধ ডেস্ক

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে অস্ত্র ও হত্যা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে জেলা পুলিশ। রোবাবার আদালতের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মজুত ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহর আদালতে আসামি ডেভিড ইমনকে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও হত্যা মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যা মামলা এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত দুই মামলায় পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অস্ত্র মামলায় তার চার সহযোগীকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের আদেশের পরপরই জেলা পুলিশ আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধ নেটওয়ার্কের বিস্তার রোধ ও অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পাওয়া তথ্যগুলো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

২৫ বছর বয়সী মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত মুসার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চল ও দেশের সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে চার সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ভোরে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় সক্রিয় একটি অপরাধী চক্রের মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র আইন ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে জেলা পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী আস্তানা ভেঙে দেওয়ার অভিযান জোরদার করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ