অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপাতত বিরত থাকা এবং অপরিশোধিত তেলের দরপতনের ইতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সাথে বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়ায় ক্রেতাদের কাছে মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৭৬ ডলারে উন্নীত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের সরবরাহ মূল্য ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৪ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানি ইয়েনকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ডলারের দরসূচকে চাপ তৈরি করেছে। ডলার দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী হয়েছে, যা ক্রয়ের চাহিদাকে ত্বরান্বিত করেছে।
বাজার গবেষণা সংস্থা কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও জ্বালানি পণ্যের অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আসন্ন সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার খবরে তেলের বাজারে ৫ শতাংশের বেশি দরপতন ঘটেছে। ইতিপূর্বে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল, যা বেশ কিছু দিন স্বর্ণের বাজারের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বেশ কয়েকজন নীতি-নির্ধারক উল্লেখ করেন যে, ঋণের খরচ না বাড়ালে মূল্যস্ফীতি তাদের কাঙ্ক্ষিত ২ শতাংশ লক্ষ্যের ওপর অবস্থান করতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য মার্কিন কর্মসংস্থান পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখছেন, যার ওপর ভিত্তি করে ফেডের সুদের হার এবং স্বর্ণের বাজার দর কোন দিকে যাবে তার আভাস মিলবে।
এদিকে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে উন্নীত হয়েছে।


