আইন-শৃঙ্খলা ডেস্ক
রাজধানীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, চোরাই সরঞ্জাম ও অবৈধ ভিওআইপি ডিভাইস। এ ছাড়া এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মোট ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অপরাধ বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত এক দিনে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নগরীর নিরাপত্তা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন বিভাগ ও থানা এলাকায় একযোগে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ এবং বিশেষায়িত গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেয়। বিস্তারিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী,Mirpur বিভাগের অধীনে সর্বোচ্চ ৯৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৬৬ জন, গুলশান বিভাগে ৪৮ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৬ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৪ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৩ জন, মতিঝিল বিভাগে ৩ ৯ জন, রমনা বিভাগে ২৮ জন এবং ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কর্তৃক ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল ও অবৈধ সরঞ্জামাদি বাজেয়াপ্ত করা হয়। জব্ধকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ২১টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, ১৪টি ল্যাপটপ, ১২টি ল্যাপটপ চার্জার, ১টি সিসি ক্যামেরা এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা। পাশাপাশি অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে ২৮টি ভিওআইপি মেশিন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৪ হাজার ৮৪৬টি প্রিপেইড সিম কার্ড, ৫২টি ক্যাবল কানেক্টর, ১৬টি ডাটা কানেক্টর, ১টি পাওয়ার সাপ্লাই মেশিন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
একই সময়ে নগরীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। বাজেয়াপ্ত মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৪ কেজি গাঁজা, ৯১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫০ দশমিক ৮ গ্রাম হেরোইন এবং ২৬ বোতল বিদেশি মদ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদি আইনবহির্ভূত সামাজিক ও আর্থিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।
উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি কার্যক্রম শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অপরাধমূলক তৎপরতা নির্মূলে এই ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


