আইন-আদালত ডেস্ক
মানিকগঞ্জের ঘিওর থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কাজী রফিকুল ইসলামকে (৫৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হলে আদালত প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। আসামি স্থানান্তরের সময় উৎসুক জনতা তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও বিভিন্ন স্লোগান দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মহানগরের সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাজী রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের নকীববাড়ী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সোমবার দুপুরে তাকে মানিকগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘিওর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোক্তার হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল ব্যক্তি একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালায়। আক্রমণকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। এই সহিংস ঘটনায় বহু অংশ গ্রহণকারী গুরুতর আহত হন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কাজী রফিকুল ইসলাম ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা আংশিক স্বীকার করলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করছেন। ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন, ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তকরণ এবং হামলায় ব্যবহৃত বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে আসামিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন পেশ করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার দুপুরে আসামিকে আদালতে নিয়ে আসার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ক্ষুব্ধ জনতা তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এ সময় উপস্থিত জনতা অভিযুক্তের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন উত্তেজনাকর স্লোগান দেয়। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘিওর থানা পুলিশ ও আদালত চত্বরের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সদস্যরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুরো প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, মামলার সুষ্ঠু বিচার সুনিশ্চিত করতে সকল আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য রয়েছে।


