জাতীয় ডেস্ক
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ঘটনাপ্রবাহকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই বিশেষ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—শহীদ ও আন্দোলনকারী যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং বিজয়ের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করা।
উদ্বোধনী আয়োজন এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে ব্রিফিংকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, উদ্বোধনী দিনে মূল কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে তাঁদের স্মৃতিচারণ তুলে ধরবেন। এছাড়া আন্দোলন, ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে থাকছে দিনব্যাপী শোক ও শ্রদ্ধার আবহভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে উত্থাপিত দুর্নির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। যদি এই প্রকল্পে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জাদুঘর চালু হওয়ার প্রাথমিক সময়সূচি ঘোষণা করে জানান, ৫ আগস্ট উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে স্মৃতি জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রদর্শনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবনির্মিত এই জাদুঘরে গণঅভ্যুত্থানকালীন সময়ের দুর্লভ ছবি, আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত নানা স্মারক, নথিপত্র এবং ডিজিটাল উপায়ে রক্ষিত প্রামাণ্য নথি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। এতে করে দেশের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি গবেষকরা বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সহজে জানতে পারবেন। গণঅভ্যুত্থানের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘরটি দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


