জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ সরকারের

জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ সরকারের

জাতীয় ডেস্ক

জনপ্রত্যাশা পূরণ, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং নবযাত্রাকে জোরদার করতে জাতীয় ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠকের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই রূপরেখা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের আপামর জনসাধারণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই জাতীয় সনদের মূল চেতনাকে ধারণ করেই পূর্ণাঙ্গ সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের স্বার্থে প্রধান বিরোধী দলসহ নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের মতামত গ্রহণ করা হবে। বিরোধী দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার জন্য শিগগিরই সময়সূচি ও তালিকা জানানো হবে। বিরোধী দল কর্তৃক নির্ধারিত সদস্যদের নাম এখনো হাতে না পেলেও, কমিটি আশা প্রকাশ করছে যে তারা দ্রুত নাম পাঠাবে। বৈঠকে সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত না হলেও লিখিতভাবে কোনো পরামর্শ বা প্রস্তাব জমা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হবে।

সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এটিকে বাধা বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না, বরং ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদের রক্তে অর্জিত সুযোগকে একটি বিশাল জাতীয় দায়িত্ব ও প্রত্যাশা হিসেবে বিবেচনা করছে। শক্তিশালী ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য সংবিধান পরিমার্জন ও পরিবর্ধনই মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

কেবল রাজনৈতিক দলের মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা হবে না বলে জানিয়েছে সংশোধন কমিটি। সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ এলে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সর্বজনগ্রাহ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় লাগায় এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক সমঝোতার রূপরেখা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’, বিগত রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং সরকারের নীতিগত ইশতেহারের সমন্বয়ে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ