অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলের মধ্যকার কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাপানের ওসাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সেমিনারে’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাপানি উদ্যোক্তারা প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার এক বিশাল আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য তৈরি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও জাপানের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের ‘মেইজি পুনর্গঠন’ মডেলের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশও জ্ঞাননির্ভর ও উদ্ভাবনী অর্থনীতি গঠনে এগিয়ে যেতে চায়।
বর্তমানে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অধিক আকারের বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাড়ে চার শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রক্রিয়ায় ৭ কোটির বেশি তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং ৩ হাজার ডলার অতিক্রম করা মাথাপিছু আয় অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করছে। যন্ত্রপাতি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস এবং রোবোটিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণ জনশক্তি জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় কার্যকর অবদান রাখতে পারে। বিশেষ করে জাইকার সহায়তা এবং পরিকাঠামোগত অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। সম্মেলনে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জাপানের হাউস অব কাউন্সিলরসের সদস্য ফুতোশি ওকাজাকিসহ শতাধিক শীর্ষস্থানীয় জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


