এলএনজি টার্মিনাল সচল: আগামী দুই-তিন দিনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা

এলএনজি টার্মিনাল সচল: আগামী দুই-তিন দিনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা

জাতীয় ডেস্ক
কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে সামুদ্রিক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) পুনরারম্ভের পর রাজধানীসহ দেশজুড়ে তৈরি হওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত কাটতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনরায় সরবরাহ চালু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গ্যাসের সার্বিক চাপ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে টার্মিনালটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৌশলীরা ত্রুটি চিহ্নিত করে তা মেরামতের ব্যবস্থা করেন। বিকেল থেকেই পাইপলাইনে গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়েছে।
জ্বালানি খাতের এ সাময়িক বিপর্যয়ের ফলে দেশের মূল গ্যাস গ্রিডে চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে একাধিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়ির রান্নাবান্না ও শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল।
পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, মূল সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় চাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। তবে দীর্ঘ পাইপলাইনে সরবরাহ পরিপূর্ণ হতে এবং চাপ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে ন্যূনতম দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। বন্ধ থাকা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সেগুলো চালুর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে এলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি দূর হবে এবং দেশের লোডশেডিং পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। জরুরি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ বজায় রাখছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ