জাতীয় ডেস্ক
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং দেশটির শক্তিশালী পুনরাগমন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং উদীয়মান কূটনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রশংসাসূচক মন্তব্যের কথা জানান। আলোচনা সভায় তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক দিক, বৈশ্বিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তাঁর সাথে আলাপকালে উল্লেখ করেছেন যে, একসময় বাংলাদেশ বৈশ্বিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডল থেকে কার্যত দৃশ্যপটের বাইরে চলে যাচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নীতিগত সংস্কারের পর বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে স্বীয় মর্যাদায় ফিরে আসছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও ইতিবাচক সংকেত।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য উদ্ধৃত করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই ধরণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে দেশের সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে যেকোনো মূল্যে পরনির্ভরশীলতার পথ থেকে বের করে আনা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ও প্রধান স্তম্ভ হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। বাংলাদেশকে আর কোনো অবস্থাতেই পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি দেশের সব স্তরের মানুষের দায়িত্ব রয়েছে।
বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ববর্তী সংকটময় পরিস্থিতির স্মারক বিশ্লেষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পূর্ববর্তী সংকটকালীন মুহূর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। তৎকালীন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়, যার ফলে মানবাধিকার রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগ ত্বরান্বিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সক্রিয় ভূমিকা এবং পরবর্তীতে নীতিগত পরিবর্তনের ফলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম কূটনৈতিক নীতি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্যান্য উচ্চপদস্থ কূটনীতিক ও বক্তারা বলেন, বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতিশীলতা এসেছে। তুরস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অংশীদারের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া দেশের সার্বিক বৈশ্বিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।
উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও কূটনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। এতে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। তারা দেশের স্বাবলম্বী পররাষ্ট্রনীতি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


