অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা বিশুদ্ধ সোনার মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে সব ধরণের সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত এই নতুন মূল্য সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুস সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার অলংকার বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায়।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাট এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকার কিনতে গ্রাহকদের এখন থেকে খরচ করতে হবে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের সোনার দামও সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, যা সাধারণ অলংকার ক্রেতাদের জন্য একটি বড় ধরনের পরিবর্তন।
একই সাথে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বাজারে বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্ব রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সরবরাহে টানাপোড়েনের প্রভাবেই বাজুসকে বাধ্য হয়ে এই উচ্চমূল্য নির্ধারণ করতে হয়েছে।
সোনার উচ্চমূল্যের প্রভাব পড়েছে দেশের রুপার বাজারেও। বাজুস সোনার পাশাপাশি সমান্তরালভাবে রূপার দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে। মানভেদে রুপার দর বৃদ্ধিতে বাজারে সার্বিক অলংকার ক্রয়েই অতিরিক্ত খরচের চাপ সৃষ্টি হবে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এক লাফে ভরিতে প্রায় ১০ হাজার টাকার মতো মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে আসন্ন উৎসব ও বিয়ের মৌসুমে যারা স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তারা অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। তবে খুচরা জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মূল্যের এই আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে সাময়িকভাবে বেচাকেনা কিছুটা হ্রাস পেলেও আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন পুনরায় বৈঠক ডেকে মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেবে।


