বিনোদন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে টানা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ক্যানসারের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের পর দেশে ফিরেছেন বিশিষ্ট সামাজিক উদ্যোক্তা, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকাই চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসকদের নির্দেশিত চিকিৎসা পর্বের প্রথম কয়েকটি ধাপ সমাপ্তির পর সম্প্রতি তিনি ঢাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছান। দেশে প্রত্যাবর্তনের পরদিন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রখ্যাত চিত্রনায়ক আলমগীর গুলশানে ইলিয়াস কাঞ্চনের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সার্বিক শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ার কারণে বর্তমানে কিছুটা শারীরিক দুর্বলতা ও ভাষাগত জড়তায় ভুগছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা এই শিল্পীর অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে তাঁর শারীরিক হালনাগাদ জানতে এবং মানসিকভাবে সুদৃঢ় রাখতে তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হন সহশিল্পী আলমগীর। সাক্ষাতকালে দুই প্রবীণ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তাঁদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি মূলত স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। চিকিৎসাজনিত কারণে কাঞ্চন কোনো কোনো স্মৃতিকথা স্মরণে ব্যাঘাত অনুভব করলে আলমগীর তাঁকে নানা পুরোনো ঘটনা মনে করিয়ে দেন এবং পূর্ণ মানসিক ধৈর্য ধারণের পরামর্শ প্রদান করেন।
ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত বছরের এপ্রিল মাসে মস্তিষ্কে জটিল টিউমার ধরা পড়ার পর থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। সেখানে একটি বিশেষজ্ঞ হাসপাতালে ও পরবর্তীতে তাঁর মেয়ের আবাসে থেকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আগস্ট মাসে তাঁর মস্তিষ্কে একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশেষ ঝুঁকির কারণে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারের একটি অংশ সফলভাবে অপসারণ করতে পারলেও সম্পূর্ণ অংশ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ড তাঁর ব্রেন ক্যানসারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
অস্ত্রোপচার পরবর্তী চিকিৎসা হিসেবে এই গুণী অভিনেতাকে বেশ কয়েকটি ধাপে কঠোর থেরাপি সেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পারিবিারিক ও নিসচা সূত্রের বরাতে জানা যায়, সপ্তাহে পাঁচ দিন হারে প্রায় ১২ সপ্তাহব্যাপী ৬০টিরও বেশি কেমোথেরাপি গ্রহণ করতে হয় তাঁকে। এর পাশাপাশি প্রথম ধাপের ৩ মাসব্যাপী ওরাল থেরাপি এবং তৎপরবর্তী দ্বিতীয় ধাপে সমপরিমাণ মেয়াদের ওরাল থেরাপির প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর শরীরে শতাধিক কেমোথেরাপির প্রভাব প্রয়োগ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার আক্রান্ত কোষটি শরীরের অন্য কোনো অংশে ছড়িয়ে না পড়া একটি স্বস্তিদায়ক বিষয় হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার সামগ্রিক অগ্রগতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
দীর্ঘ সময় প্রবাসে চিকিৎসাধীন থাকার পর নিজ দেশের মাটিতে ফেরার আকুলতা থেকেই চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সাময়িক বিরতিতে তিনি দেশে ফিরেছেন। বর্তমানে তাঁর দৈনন্দিন স্বাভাবিক চলাফেরা ও খাবার গ্রহণের প্রক্রিয়া চললেও কথাবার্তায় কিছুটা শ্লথভাব এবং বাক্য গঠনে ক্লান্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। চিকিৎসক দল নির্ধারিত প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থার পুনঃমূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপে চিকিৎসা শুরু করবেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একাধিক কালজয়ী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের রূপকার হিসেবে ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদান সর্বজনবিদিত। দেশে ফেরার পর তাঁর সুস্থতা কামনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের ভক্তদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চিকিৎসকরা তাঁক পূর্ণ শারীরিক বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


