অবসরে যাওয়া ৭৫ হাজার শিক্ষক পাচ্ছেন পাওনা টাকা, সরকারের বিশেষ দুই হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ

অবসরে যাওয়া ৭৫ হাজার শিক্ষক পাচ্ছেন পাওনা টাকা, সরকারের বিশেষ দুই হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ

জাতীয় ডেস্ক
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অবসর ও কল্যাণ তহবিলের সুবিধা প্রাপ্তির অপেক্ষায় থাকা দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ অনুমোদন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বরাদ্দকৃত এই অর্থের মাধ্যমে ২০২২ সাল থেকে জমাপ্রাপ্ত আবেদনের সাপেক্ষে ৭৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর বকেয়া পাওনা একযোগে পরিশোধ করা হবে। আগামী ১৫ আগস্ট ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষকদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ অর্থ জমা করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন থেকে প্রতি মাসে অবসর সুবিধার জন্য ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়। তবে বিদ্যমান ব্যবস্থার কারণে প্রতি মাসে সংগৃহীত তহবিলের চেয়ে প্রদেয় সুবিধার অঙ্ক বেশি হওয়ায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঘাটতি।
তথ্য অনুযায়ী, অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রতি মাসে চাঁদা ও এফডিআরের লভ্যাংশ মিলিয়ে জমা হয় প্রায় ৭৩ কোটি টাকা, যেখানে সুবিধা প্রদানের জন্য প্রয়োজন হয় ১১৪ থেকে ১১৫ কোটি টাকা। ফলে প্রতি মাসেই গড়ে ৪২ কোটি টাকা ঘাটতি তৈরি হয়। অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতি মাসে আয় প্রায় ৫২ কোটি টাকা হলেও চাহিদা থাকে ৬৫ কোটি টাকার, যার ফলে এখানেও প্রতি মাসে আনুমানিক ১৩ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যায়। এর পাশাপাশি বিগত কয়েক বছরে এই তহবিলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দুর্বল ব্যাংকে আটকে পড়া এবং সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বাৎসরিক বরাদ্দ না থাকায় বিশাল অংকের আবেদন জমে থাকে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জানান, বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৭৫ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টে ৪৪ হাজার আবেদন জমা রয়েছে। তবে উভয় স্থানেই একক ব্যক্তির আবেদন একাধিক হওয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগী শিক্ষকের সংখ্যা ৭৫ হাজার। সব শিক্ষকের চূড়ান্ত পাওনা একযোগে পরিশোধ করতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।
বিদ্যমান বাজেট সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার একাধিক ধাপে এই পাওনা নিষ্পত্তির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপে শিক্ষকদের নিজেদের জমা করা অর্থের মূল অংশ ফেরত দিতে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। এর মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা সরকারের থোক বরাদ্দ থেকে এবং অবশিষ্টাংশ অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকে সংস্থান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিটি শিক্ষক এককালীন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারবেন।
শিক্ষা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, আগামী ১৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ পদ্ধতির বিস্তারিত কাঠামোগত তথ্য তুলে ধরা হবে। প্রথম ধাপের অর্থ বিতরণের পর পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের পাওনা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হলো।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ