বিনোদন ডেস্ক
শুটিংয়ের প্রয়োজনে কপালে কৃত্রিম উপায়ে পেশি শিথিলকরণ বা ‘বোটক্স’ চিকিৎসা করিয়ে চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী, টেলিভিশন উপস্থাপক ও মডেল মিনি মাথুর। প্রায় দেড় দশক আগের এই ঘটনাকে নিজের জীবনের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে তিনি সৌন্দর্য বিষয়ে কৃত্রিমতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এবং তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব স্বাভাবিক রূপ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘটনার পটভূমি বর্ণনা করে মিনি মাথুর জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে একটি দূরবর্তী বনজঙ্গলে একটি অনুষ্ঠানের ধারণ কাজ চলছিল। প্রখর সূর্যকিরণের কারণে সেখানে তাকে বারবার চোখ ও ভ্রু কুঁচকাতে হচ্ছিল। এর ফলে তার কপালে একটি গভীর ও স্পষ্ট রেখা ফুটে ওঠে, যা ক্যামেরায় দৃশ্যমান ছিল। দৃশ্যধারণে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে শুটিং দলের পক্ষ থেকেই তাকে এ সমস্যার একটি দ্রুত সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে কপালে ইনজেকশনের মাধ্যমে বোটক্স করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে কপালের পেশি সাময়িকভাবে স্থবির বা অবশ হয়ে যায়।
চিকিৎসা নেওয়ার পরপরই মিনি মাথুর এর গুরুতর বিরূপ প্রতিক্রিয়া টের পান। তিনি জানান, ইনজেকশনের প্রভাবে তার মুখের পেশিগুলো এতটাই অনমনীয় ও শক্ত হয়ে গিয়েছিল যে স্বাভাবিক অনুভূতি প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অভিনয় বা উপস্থাপনার সময় মনের ভেতরের প্রকৃত আবেগ, আনন্দ কিংবা দুঃখের এক্সপ্রেশন মুখে ফুটিয়ে তোলা যাচ্ছিল না। পেশাগতভাবে এই পরিস্থিতি তার জন্য মারাত্মক অস্বস্তিকর ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। যদিও বোটক্সের ক্ষতিকর এই প্রভাব প্রায় তিন মাস পর ধীরে ধীরে কেটে যায়, তবে এটি তার ক্যারিয়ারে একটি বড় অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।
এই ঘটনার আলোকে মিনি মাথুর তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, চিকিৎসার আগে তাকে এর দীর্ঘমেয়াদি ও মানসিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়নি। কোনো ব্যক্তি যদি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এই ধরনের চিকিৎসা নিতে চান, তবে তাতে তার কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু একজন নারীর বাহ্যিক অবয়ব বা সৌন্দর্য কেমন হওয়া উচিত—তা সমাজ, কর্মক্ষেত্র বা অন্য কারও নির্ধারণ করে দেওয়া অনুচিত বলে তিনি জোর দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খুব অল্প বয়সেই কৃত্রিম উপায়ে রূপচর্চা ও বোটক্স নেওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মিনি মাথুর বলেন, কৃত্রিমভাবে সাময়িক সৌন্দর্য অর্জনের চেয়ে মানুষের নিজস্ব স্বাভাবিক রূপ ও স্বকীয়তা অনেক বেশি মূল্যবান। হুট করে প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে যেকোনো ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার আগে এর ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন হওয়ার জন্য তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।


