ভারতের ভূমিকা ও আন্দোলনের স্থিরচিত্র হ্রাসের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ: জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির প্রশ্ন

ভারতের ভূমিকা ও আন্দোলনের স্থিরচিত্র হ্রাসের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ: জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির প্রশ্ন

রাজনীতি ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ছবি, সীমান্ত হত্যার তথ্য এবং নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনের চিত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে ঐতিহাসিক এই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ ব্যক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাদুঘর পরিদর্শনের সময় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য এবং মোদিবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের স্থিরচিত্র সংরক্ষিত ছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে সেই ঐতিহাসিক উপাদানগুলো আর জাদুঘরে দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভারতকে তোষণ বা ভয় পেয়েই কি ইতিহাসের এই অবিচ্ছেদ্য অংশগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে?
প্রদর্শনীতে বৈදේශিক প্রভাবের ভূমিকার ঘাটতি তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, গত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রদর্শনীতে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে, যা পুরো ইতিহাসের আংশিক উপস্থাপন। ভারতের সঙ্গে যেকোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ; কোনো আপসের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাদুঘরের প্রদর্শনীকে আরও বস্তুনিষ্ঠ ও বিস্তৃত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার বাইরের সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের যে ব্যাপক অবদান ছিল, তা যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি। নির্দিষ্ট কিছু পরিচিত মুখকে বারবার কেন্দ্রবিন্দু করার সমালোচনা করে তিনি ইতিহাসকে রাজনৈতিক বা দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া জাদুঘরের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জানান, বর্তমানে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে বিশৃঙ্খলভাবে পরিদর্শন কার্যক্রম চলছে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে প্রায় ২০০ জন প্রশিক্ষিত জনবল এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অডিও গাইডের প্রয়োজন রয়েছে। এই স্মারককে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় রূপান্তর করতে আইনগত কাঠামো প্রণয়নের জোর দাবি জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারসহ দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ