কূটনৈতিক ডেস্ক
ঢাকা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করে আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা এবং আরোগ্য প্রার্থনা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিজস্ব ভেরিফাইড পাতায় প্রচারিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
প্র প্রেরিত শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশের সরকারপ্রধান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শারীরিক শক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা জানান। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ার শীর্ষ নেতাকে বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত, শ্রদ্ধেয় এবং পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। দেশের জনগণ ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং সে দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি, সমবেদনা ও আন্তরিক শুভকামনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য ও শক্তি দান করুন, যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে পুনরায় দেশ ও জনগণের সেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।”
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, “আমাদের দেশের এই বিশেষ ও বিশ্বস্ত বন্ধুর প্রতি বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং আমার পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও আতিথেয়তাপূর্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই সুহৃদয় কূটনৈতিক যোগাযোগ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় ঐতিহাসিক বন্ধন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা বিনিময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বেগবান করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সূচনালগ্ন থেকেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে অত্যন্ত গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এই দেশটি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অন্যতম। কালক্রমে এই সম্পর্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, পর্যটন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মতো প্রধান প্রধান খাতে অভূতপূর্ব বিস্তার লাভ করেছে।
বিশেষ করে, শ্রমবাজার ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অন্যতম একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যস্থল। বর্তমানে লাখ লাখ বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়ার নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা এবং কৃষি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের অর্জিত রেমিট্যান্স যেমন বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে শক্ত ভিত গড়ে তুলছে, তেমনি মালয়েশিয়ার অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
এছাড়া, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিক থেকেও দুই দেশ ঘনিষ্ঠ অংশীদার। বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য দ্বিপক্ষীয়ভাবে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুস্বাক্ষর, বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দ্বিপক্ষীয় সুযোগ-সুবিধা ত্বরান্বিত করার লক্ষে উভয় দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতেও বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিচয় দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি), কমনওয়েলথ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের বিভিন্ন উদ্যোগে উভয় দেশ বিশ্ব শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের (ASEAN) সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার এবং ‘সেক্টরাল ডায়লগ পার্টনারশিপ’ অর্জনের উদ্যোগে মালয়েশিয়া শুরু থেকেই ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করে আসছে। এই অবস্থায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সহানুভূতিশীল বার্তা দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও উচ্চমাত্রায় উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


