তরুণদের দক্ষ ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

তরুণদের দক্ষ ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক
দেশের বিশাল তরুণ সমাজকে সময়োপযোগী মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক ব্যবহারিক শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে তারা কেবল জাতীয় উন্নয়ন নয়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও অতিমূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি, সততা এবং উদ্যোমই হচ্ছে আগামীর বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক।
বুধবার আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি কনবেনশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দেশের বিশাল জনমিতিক লভ্যাংশ বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের মূল দর্শন হচ্ছে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠন করা। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে কেবল প্রশাসনিক বা নীতিগত ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হলে সমাজের সব স্তরের পেশাজীবী, সুশীল সমাজ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তরুণদের শুধুমাত্র গতানুগতিক ডিগ্রিনির্ভর শিক্ষার দিকে ধাবিত না হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি, তথ্যপ্রযুক্তিমূলক ও ব্যবসায়িক শিক্ষার প্রসারের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি যুব সমাজকে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও সহায়তার চিত্র তুলে ধরে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারি নানা আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন ট্রেডে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর প্রারম্ভিক মূলধনের অভাবে যেন কেউ থমকে না যায়, সে লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগী যুবকদের জন্য ‘সিড মানি’ বা প্রাথমিক মূলধন প্রদানের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রেখেছে। নতুন ধারণা ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে জাতীয় বাজেটে বিশেষ ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ তহবিল’ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা নবীন উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও অর্থায়ন নিশ্চিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় তরুণ জনগোষ্ঠীর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই কর্মক্ষম বয়সসীমার মধ্যে রয়েছে। এই সুযোগ আগামী কয়েক দশক ধরে বহাল থাকবে, যাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। তবে প্রযুক্তি ও আধুনিক দক্ষতার উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিল্প খাতের চাহিদার সমন্বয় ঘটানো সময়ের বড় দাবি।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে বক্তারা দেশীয় শ্রমবাজারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা দূর করার তাগিদ দেন। তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা ও বিশ্বমানের নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। যুব সমাজকে শুধু নিষ্ক্রিয় সুবিধাতভোগী হিসেবে না দেখে, তাদের দক্ষ কর্মী, সৃজনশীল উদ্যোক্তা এবং জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানানো হয়।
সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রথম সচিব জাওয়াদ আজাউই এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (উল্যাব) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তূজা। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের পরবর্তী পর্বগুলোতে তরুণদের তৈরি বিভিন্ন সামাজিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রদর্শনী, বিষয়ভিত্তিক প্যানেল আলোচনা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বিশেষ কর্মশালার আয়োজন রাখা হয়েছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ